বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দাবি বাড়িভাড়া মওকুফ

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:১৩  
দেশের অধিকাংশ পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলে আসন শিক্ষার্থীদের তুলনায় অপ্রতুল।ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় ভাড়া বাসায়। করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশে ও ছড়িয়ে পড়ায়,বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা ফিরে গেছেন নিজ নিজ আবাসস্থলে। কিন্তু টানতে হচ্ছে বাসা ভাড়ার বোঝা। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা টিউশনির আয়ের উপর নির্ভরশীল। হাত চালানোর জন্য কেউ কেউ বেছে নেন পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম খন্ডকালীন পেশা।কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতি চলায় আপাতত সবই বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে পুরোটা না হলে অন্তত অর্ধেক ভাড়া মওকুফ করা উচিত। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান অলিন এ ব্যাপারে বলেন, এই ক্রান্তিকালে বাসা ভাড়া আরেকটা গায়ের বোঝা হয়ে গেছে। আমরা ২/৩ মাস নোয়াখালী তে থাকবই না। তাহলে পুরো ভাড়া কেনো দিতে যাবো? বাড়িওয়ালার পরিবার আছে, আমাদেরও ত পরিবার আছে। যেইখানে আমরাই নোয়াখালিতে থাকার মতো সামর্থ্য পাচ্ছি না এখন সেহেতু বাড়িওয়ালাদের স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি দেখা উচিত। পারলে পুরো ভাড়া মওকুফ করে দিক, আর বেশি একান্ত সমস্যা হলে অর্ধেক মওকুফ করুক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া হাবিব এ ব্যাপারে বলেন, বর্তমান এই পরিস্থিতিতে বাড়ি ভাড়া খুবই কষ্টের কারণ। রাজশাহীতে বাড়ি ভাড়া তুলনামূলক ভাবে বেশি। ২/৩ মাস আমরা থাকবই না। তাহলে কেন পুরো ভাড়া আমরা দিব? বাড়িভাড়া বিষয়ে সকল বাড়িওয়ালা এবং মেস মালিকদের এই বিষয় টা মানবিক ভাবেই বোঝা উচিত। এই সংকটাপন্ন অবস্থায় বাড়ি ভাড়া মওকুফ করা উচিত। অথবা মানবিকতার কথা বিবেচনায় এনে বাড়ি ভাড়া অর্ধেক মওকুফ করুক। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ডিএম, মারুফ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে দেশে একটা বড় সংকট দেখা দিয়েছে।এর মাঝে আর একটা সংকট বাসা ভাড়া।উন্নত বিশ্বের কোন কোন দেশে সরকার থেকে বাসা ভাড়ার জন্য কিছুটা সাহায্য করা হচ্ছে।কিন্তু আমাদের মত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য এটা সম্ভব নয়।কাজেই সকল বাসা মালিকের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।বাসা ভাড়া মওকুফ করা প্রয়োজন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক আহম্মেদ বলেন,নৈতিক কারনে হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য বাসা ভাড়া অর্ধেক করা উচিত।সরকারের এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকলে কাজটা সহজ হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শামিম আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার পরিবারে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। এমন সময়ে যারা টিউশনি করে নিজের খরচ যোগান দিতো তাঁদের বাড়ি/মেস ভাড়া তো কোনোভাবেই সম্ভব না। শুধু তাই না যাঁরা পরিবার থেকে খরচ নিতো তাদের পরিবারে ও যখন সংকটময় পরিস্থিতিতে আছে এই সময় বাড়ি/মেস ভাড়া নেওয়া অযৌক্তিক। তবে কোনো মেস/বাড়ি মালিকের যদি ভাড়া না নিলে নিজের চলতে সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে তাঁরা পুরো ভাড়া মওকুফ না করলে ও হাফ করতে পারে - মোঃরুহুল আমিন রাহিদ, ডিজিবাংলা